গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বিশ্ব উষ্ণায়ন, মহাসাগর হয়ে যাবে হ্রদ | Global Warming is Here

global-warming summit

বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) বলতে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রার ক্রমান্বয় বৃদ্ধিকে বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা কেই বলা হয় বিশ্ব উষ্ণায়ন। বিগত ১৫০ বছরের তাপমাত্রা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন ১০০ বছর পূর্বে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সাধারন অবস্থায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে যে তাপ এসে পৌঁছায় তার প্রায় বেশির ভাগ অংশই পৃথিবী থেকে পার্থিব বিকিরন রূপে পৃথিবী থেকে মহাশূন্যে নির্গত হয়ে যায়, ফল স্বরূপ পৃথিবীর তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে। বায়ুমণ্ডলীয় কিছু গ্যাস রয়েছে যা পার্থিব বিকিরনের কিছু পরিমান তাপ শোষণ করে পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলেছে। এই গ্যাস গুলি গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়ে থাকে। গ্রিন হাউস গ্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান গ্যাস গুলি হল কার্বন ডাই অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, মিথেন, ওজোন ও নাইট্রাস অক্সাইড। পৃথিবীকে কাঁচের ঘরের মতো বেষ্ঠন করে থাকা এই গ্রিন হাউস গ্যাস বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প না থাকলে পৃথিবীর বর্তমান গড় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি থেকে কমে – ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেত। 

২৬ জুলাই থেকে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে ভার্চুয়াল আলোচনা। যাতে অংশগ্রহণ করেছে ১৯৫টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি। গত ২ সপ্তাহ ধরে চলেছে এই আলোচনা। শেষপর্যন্ত বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে IPCC-র রিপোর্টে সহমত হয়েছে সবাই।

An IPCC special report on the impacts of global warming of 1.5 °C above pre-industrial levels and related global greenhouse gas emission pathways and in the context of strengthening the global response to the threat of climate change, sustainable development, and efforts to eradicate poverty.

Causes for rising emissions:

  • Burning coal, oil and gas produces carbon dioxide and nitrous oxide.
  • Cutting down forests (deforestation). Trees help to regulate the climate by absorbing CO2 from the atmosphere. When they are cut down, that beneficial effect is lost and the carbon stored in the trees is released into the atmosphere, adding to the greenhouse effect.
  • Increasing livestock farming. Cows and sheep produce large amounts of methane when they digest their food.
  • Fertilisers containing nitrogen produce nitrous oxide emissions.
  • Fluorinated gases are emitted from equipment and products that use these gases but Such emissions have a very strong warming effect, up to 23 000 times greater than CO2.

IPCC রিপোর্টে কিছু উদ্বেগজনক বিষয় সামনে এসেছেঃ

২০২২ সালের মধ্যে ষষ্ঠ মূল্যায়ন রিপোর্ট শেষ করবে ‘ইন্টার গভর্নেমন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’স (IPCC)। ১৫ নভেম্বর ২০২১ সোমবার এই রিপোর্টের প্রথম ভাগ প্রকাশিত হয়েছে।

১.  ২১ শতকে সমুদ্র স্তর অনেকটাই ওপরে উঠে আসবে। উপকূলবর্তী এলাকায় বন্যা, মাটি ধসের মতো ঘটনা লেগেই থাকবে। আগে ১০০ বছরে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা যেত, তা প্রতি বছরেই দেখা যাবে।
২.  বিশ্ব উষ্ণায়নের মাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেলে গরমের মাত্রা বেড়ে যাবে। গ্রীষ্মকাল বাড়বে, শীতকাল কমবে। ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে , সেক্ষেত্রে অসহনীয় গরমের মুখে পড়তে হবে সবাইকে। মূলত, এতে কৃষিকাজ ও স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে।

৩.  জলবায়ু পরিবর্তন বৃষ্টির ধরনকে প্রভাবিত করবে। উচ্চ অক্ষাংশে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের বড় অংশে হ্রাস পাবে বৃষ্টি। অঞ্চল ভেদে বদলে যেতে পারে বর্ষার সময়।
৪.  মানুষের ক্রিয়াকলাপের ফলেই বদলে যাবে জলবায়ু। শীতল সমুদ্রেও গরম হাওয়া বইতে শুরু করবে। সমুদ্রের জলে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাবে, কমে যাবে অক্সিজেন লেভেল। যার ফলে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র বদলে যাবে। এতে কেবল সমুদ্রের প্রাণীদের ক্ষতি হবে না এর ওপর নির্ভরশীল মানুষেরও সমস্যার সৃষ্টি হবে।
৫.  উষ্ণায়নের ফলে শহরের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। শহর উপকূলবর্তী হলে প্রায় বন্যা দেখা দেবে এলাকায়। শহরগুলিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি ঘটবে। ফলে জল ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। 

অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, গত বছর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের আবহাওয়া দফতর বলছে, পৃথিবী এখন ভীতিকর গতিতে এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যখন চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া এবং সমুদ্রের পানির স্তর বৃদ্ধিসহ কি ঘটবে কিছুই বলা যায় না।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের ধারণা গত আট লক্ষ বছরের মধ্যে পৃথিবীর বাতাসে কার্বনডাই অক্সাইড মিখেন এবং নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ এখন সবচাইতে বেশি।

বিভিন্ন ইসলামিক বিষয় পড়তে ভিজিট করুন www.IslamBangla.Com । সাথেই থাকুন www.prosno.xyz ভিজিট করতে থাকুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *