সিরিয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জয় পাবে তুরস্ক, দাবি বিশ্লেষকদের

0
69

সিরিয়ায় রাশিয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল তুরস্কের। উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে দেশ দুটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়া-তুরস্ক যুদ্ধে জড়ালে জয় পেত তুরস্কই।

মার্কিন ম্যাগাজিন দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের বরাত দিয়ে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আহভাল জানায়, সিরিয়ার মাটিতে তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়ায়নি তারা। অবশ্য এখনো যে যুদ্ধের সম্ভাবনা কেটে গেছে তা নয়। তবে সিরিয়ায় যুদ্ধ হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয় পাবে তুরস্ক।

পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্মিলিত সামরিক শক্তিতে তুরস্কের চেয়ে এগিয়ে আছে রাশিয়া। তবে সিরিয়ায় যুদ্ধের ক্ষেত্রে মস্কোর চেয়ে অন্তত কয়েকগুণ শক্তিশালী আঙ্কারা। এর বেশকিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম একটি ভৌগোলিক কারণ।

সিরিয়ায় সমুদ্রপথেই বেশিরভাগ সামরিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠায় রাশিয়া। মূলত এ পথের ওপর নির্ভর করেই দামেস্কে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছে মস্কো। সিরিয়ায় প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম পাঠাতে তুরস্কের বসফরাস প্রণালি ব্যবহার করতে হয় রাশিয়ার।

এ বিষয়ে সামরিক বিশ্লেষক মাইকেল পেক বলেন, সিরিয়ায় সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে রাশিয়ার জন্য বসফরাস প্রণালি নিশ্চিতভাবেই বন্ধ করে দিত তুরস্ক। এতে মস্কোর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেত। এ কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহজেই জয় পেত তুরস্ক।

অন্যদিকে তুরস্কের মূল ভূ-খণ্ডে রাশিয়া হামলা চালালে এর পরিণতি কোন দিকে যেত তা বলা কঠিন। তবে এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা ছিল। কেননা, ন্যাটোভুক্ত দেশের মূল ভূখণ্ড হামলার শিকার হলে অন্য দেশগুলো সহায়তা দিতে বাধ্য।

সে হিসেবে তুরস্কের ভূখণ্ডে রাশিয়ার হামলার পর যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হতো যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের অনেক দেশ। অন্যদিকে রাশিয়ার পাশেও তার মিত্রদের অবস্থানের কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার জোর সম্ভাবনা ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here