মুসল্লিহীন কাবা : সামাজিক মাধ্যমে ব্যথিত ইমামের আহাজারি

0
74

“আল্লাহ, আমাদেরকে আপনার ঘর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েন না। আমাদের পাপের কারণে আমাদেরকে জামাতে নামাজ থেকে বঞ্চিত কোরেন না। আমাদেরকে আপনার কাছে আবার ফিরিয়ে নিন। আমাদের তওবা কবুল করুন।

আমাদেরকে এবং সকল মুসলমানকে এই সর্বপ্রকার মহামারি ও দূরারোগ্য ব্যধি থেকে হেফাজত করুন।” সামাজিক মাধ্যম টুইটারে কাবা শরীফের ইমাম আবদুর রহমান সুদাইসের আবেগমথিত বিভিন্ন টুইট এভাবেই প্রকাশ পাচ্ছে।

“আল্লাহ, মুসিবত কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। তুমি ছাড়া আমাদের ফরিয়াদ করার কেউ নেই। কেউ তুমি ছাড়া কে আছে, যার কাছে আমরা সাহায্য চাইতে পারি! আমাদের অবস্থার উপর দয়া কর। আমাদের অক্ষমতাগুলো ক্ষমা কর।

তুমিই আমাদের অভিভাবক। আল্লাহ, এই বিপদ মহামারির কারণে তোমার ঘরে যেতে না পারার ব্যাথা আর সইতে পারছি না। হে মহান শক্তিমান, দয়া করে এই মহামারি দূর করে দাও।”
আরেক টুইটে লেখেন, আজ থেকে আমরা মুআযযিনকে বলতে শুনব, সল্লু ফি রিহালিকুম। “নিজ নিজ জায়গায় নামাজ পড়ে নাও।”

“হে আল্লাহ, যদি আমাদের পাপের কারণে তোমার ঘরে নামাজ পড়া থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকি, তাহলে আমরা তাওবা করছি সকল গোনাহ থেকে। দয়া করে তুমি আমাদেরকে তোমার ঘরে আবার ফিরিয়ে নাও। আমাদের দেশ থেকে এবং সকল মুসলিম দেশ থেকে তুমি এই মহামারি দূর করে দাও।”

অপর এক টুইটে লেখেন, “তুমি থাকতে কার কাছে অভিযোগ করব আল্লাহ! তোমার দুয়ার থাকতে কার দুয়ারে হাত পাতব! তুমিই তো একমাত্র মাবুদ। তোমাকে ছেড়ে আমরা কার এবাদত করব! তোমার উপরই আমাদের সকল আশা ভরসা।

হে আল্লাহ, আমাদেরকে সেসকল লোকদের অন্তর্ভুক্ত কর যারা নেয়ামত পেলে শোকর করে। বিপদে সবর করে। গোনাহ হয়ে গেলে তওবা করে।” এই মহামারির সময় লা হাউলা ওয়ালা কুয়াতা… বেশী বেশী পড়ার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি লেখেন, যদি বিপদগ্রস্তরা জানত, লা হাউলা …

পড়ার মাঝে কত বিপদমুক্তি, প্রশান্তি, আল্লাহর কত মদত নুসরত ও দয়া আছে তাহলে তারা এটাকে এমনভাবে পড়া শুরু করত যে এক মূহুর্ত বিরাম নিত না। চলতে ফিরতে উঠতে বসতে শয়নে স্বপনে জাগরণে সর্বাবস্থায় পড়তে থাকতো- লা হাউলা ওয়া কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়িল আজীম।

“আল্লাহ, তোমার কাছেই আমানত রাখছি এই পবিত্র নগরি হারাম শরীফ ও তার বাসিন্দাদের। নারী পুরুষ যুবা বৃদ্ধ শিশু ঘর বাড়ি আকাশ মাটি সবকিছু তোমার কাছে আমানত রাখলাম। দয়া করে তুমি এগুলোকে মহামারি থেকে হেফাজত কর।

তোমার কুদরতে তুমি করোনা ভাইরাস দূর করে দাও।” সকলকে আশ্বাস ও সাহস দিয়ে তিনি লেখেন, বিপদ যত বড় হোক, তা চিরদিনের নয়। বিপদ যত বড় হোক, আল্লহর রহমত তার চেয়ে বড়। ইনশাআল্লাহ, আমাদের মুক্তি অতি নিকটেই।

সুতরাং হতাশ হবেন না। অধৈর্য হবেন না। অস্থিরতা প্রকাশ করবেন না। আল্লাহকে ডাকতে থাকুন। তার উপর ভরসা রাখুন। তার সিদ্ধান্তের উপর নিজের সবকিছু অর্পণ করুন। অন্যকেও আল্লাহর উপর ভরসা করে নিশ্চিন্তে থাকতে বলুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here