পাপিয়া নামের মুখোশধারীরা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে

0
46

গণতন্ত্রের নামে ভণ্ডামির উদাহরণ বাংলাদেশের মতো অনেক দেশে দেখা যায়। দরিদ্র দেশের নেতা বা নেত্রীর ক্ষমতা বেশি, এ উদাহরণ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে লক্ষ্যণীয়। বিরোধী দলের পরিকাঠামো ধ্বংস করতে চাইলে সে দলের নেতা বা নেত্রীকে জেলে ঢুকাতে হবে।

এ থিওরিতে বিশ্বাস করে পাকিস্তান, বার্মা বা বাংলাদেশের মতো দেশগুলো। অবৈধভাবে যারা টাকার পাহাড় গড়ছে বর্তমানে এরা সবাই বাংলার বিশ্বাসঘাতক।

দিনে দিনে এদের সংখ্যা যদি বাড়তেই থাকে তাহলে শান্তি দেশ থেকে চিরতরের জন্য বিলীন হয়ে যাবে। তখন শুরু হবে গৃহযুদ্ধ, বাজবে দেশের বারোটা, পারবেনা কেউ রক্ষা করতে অরাজকতাকে। শেষে আফগানিস্তানের মতো দশা হবে দেশের। আমেরিকার মতো প্রভাবশালী দেশের সৈনিকরা বাংলাদেশে ঢুকে দেশের তেরোটা বাজাবে।

সরকারের উচিত হবে দেশের বিরোধী দলকে পঙ্গু না করে বরং প্রতিযোগিতায় সক্রিয় অংশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া যা গণতন্ত্রের দেশে বিরোধীদলের ন্যায্য অধিকার।

সরকারের কর্মের প্রতি সচরাচর বিরোধী দলের কড়া নজর থাকে, কোনো রকমের অন্যায়ে বিরোধী দলই তার প্রতিবাদ করে। শক্তিশালী বিরোধীদলের সমন্বয়ে এক নায়কতন্ত্রের ক্ষমতা লোপ পায়। সরকার মনে করছে তার প্রশাসন অন্যায়ের মোকাবিলা করছে। ভুল, সম্পূর্ণ ভুল। কারণ ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে চাকুরিরত প্রশাসন সবসময়ই হয় সরকারের গোলাম, সে ক্ষেত্রে তারা গোলামের ভূমিকাই পালন করে থাকে। যার কারণে প্রশাসন সব জেনে শুনেও অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে কাজ করে না। তার জলন্ত প্রমাণ দেশে মদ, গাজা, ইয়াবা, হেরোইনের মতো ভয়ঙ্কর বিষাক্ত জিনিস ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি।

কিভাবে এসব ঢুকতে পারে যেখানে আমাদের বর্ডার গার্ড বা পুলিশ ২৪ ঘন্টা পাহারা দিচ্ছে দেশ। এমন প্রশ্ন কি আমার একার নাকি সারাদেশের? সরকার সব জানে কোথায়, কেন, কিভাবে, কে কী করছে, তারপরও এর উপায় খুজে সমাধান করতে ব্যর্থ। মাঝে মধ্যে ‘এডহক’ কিছু করছে যা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। সংসদে বিরোধী দলের অভাবেই দেশের প্রশাসনের এ দুরাবস্থা।

রাজনীতিবিদ বা নেতানেত্রী সেজে পাপীয়া নামের কলঙ্কিত মহিলা হোটেলে মাসের পর মাস বসবাস করছে এবং লক্ষ কোটি টাকা শুধু হোটেল ভাড়া দিচ্ছে, একবারও কি হোটেলের মালিকের বা কর্মীদের মাথায় চিন্তা আসেনি কী কারণ থাকতে পারে? তাহলে কি হোটেল মালিক এবং কর্মীরাও দানব হয়েছে? সরকার মনে করছে বিরোধী দলের নেত্রীকে জেলে রেখে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে, তা সঠিক নয়।

সরকারের প্রতিহিংসা পরায়ণের কারণে দেশে দিনদিন দেশ বিরোধী পাপিয়া নামের মুখোশধারীরা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। একইসঙ্গে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে, যেমনটি সরকার লেগেছে বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে। আমার এসব লেখার কারণ একটাই তাহলো, ‘ওয়েকআপ কল’ দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।

প্রতিহিংসা পরায়ণতা ত্যাগ করুন, যা হারিয়েছে তা পাওয়া যাবেনা, তবে যা হারায়নি তা যত্ন সহকরে ধরে রাখতে চেষ্টা করুণ। যারা ভালো আছে তারা সব সময় ভালো থাকবে।

ক্ষমতাশীল আর ক্ষমতার আসপাশের মুষ্টিমেয় কয়েকজন ভালো আছে, কিন্তু ভালো নেই দেশ ও দেশের সাধারণ মানুষ। আমার এ লিখা হয়ত পৌঁছাবেনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে, তবুও লিখে রাখলাম বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়ে তাদের আপনার কাজে সাহায্য করতে সুযোগ দিন। বর্তমানে যারা দেশকে ধ্বংস করছে তাদের পিছনে সময় দিন, তাদের আটক করুন এবং চরম শাস্তি দিন।

মনে রাখবেন বিরোধী দল আপনার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভুল ত্রুটি ধরবে তাতে আপনার ম্যানেজমেন্টের যেমন দক্ষতা বাড়বে, বাড়বে দেশে আপনার জনপ্রিয়তা।

আর দেশ গণতন্ত্রের অনুপ্রেরণায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলায় যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া জয়ের মধ্যে মজা নেই ঠিক দেশ চালাতে বিরোধী দল ছাড়া দেশে গণতন্ত্র নেই। যদি সত্যিকারে জেতার প্রবণতা থাকে তবে প্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে খেলে জয়ী হোন এবং জয় করুন মানুষের মন। আমার সঙ্গে তর্ক নয় বরং মনে করুন সেই পুরনো কথাগুলো ‘বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদুর।’ প্লিজ রিমেম্বার -It’s not about how hard you hit. It’s about how hard you can get hit and keep moving forward. লেখক- রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here