ইসরাইল সেনাদের রুখে দিতে ঢিল হাতে ২ ফিলিস্তিনী শিশুর এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

0
203

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনে অস্ত্র সজ্জিত ইহুদীবাদী ইসরাইল সেনাদের রুখে দিতে ২ ফিলিস্তিনি শিশুর বীরের বেশে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়, এমন একটি দৃশ্য সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে, শুধু তাই নয়, ঐ ছোট্ট দুটি শিশুর হাতে দেখা যায় ছোট ছোট পাথরের টুকরো, এইভাবেই বিভিন্ন সময় ইহুদিবাদী ইসরাইল সেনাদের বিরুদ্ধে ওমর ও বীর খালিদের মত রুখে দাঁড়াতে দেখা যায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি শিশু কিশোর দের।

রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে এর আইনগত মর্যাদা

প্যালেস্টাইন খুবই প্রাচীন একটি নাম; ইতিহাসের পরম্পরায় একে আমরা দেখতে পাই ভূ-মধ্য সাগর, মৃত সাগর এবং জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী এলাকার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে সুদীর্ঘকাল যাবৎ।

প্যালেস্টাইন ভূমির প্রাচীন নাম কানআন ; কারণ, ঐতিহাসিকভাবে এখানে অবস্থান গেড়েছিল কানআনি সম্প্রদায়। খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার সহস্রাব্দের সূচনাতে যারা আরব উপদ্বীপ হতে এখানে আগমন করেছিল। প্যালেস্টাইন নামটি সমুদ্র উপকূলীয় এক সম্প্রদায়ের নাম হতে নেয়া হয়েছে।

প্রাচীনকালে কেনান নামে পরিচিত ফিলিস্তিন ভূ-খন্ডের আয়তন ছিল ২৫০০ বর্গ কিলোমিটার। দেশটি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকুল এবং মিশর, জর্দান, সিরিয়া ও লেবাননের পাশে অবস্থি’ত। প্যালেস্টাইন নবীদের পূন্যভূমি। এ ভূমিতে ইবরাহীম, ইসমাইল, ইয়াকুব, ইউসুফ, লুত, দাউদ, সোলাইমান, সালেহ, জাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ইসা (আ.) জীবন-যাপন করেছেন, কুর’আনে যাদের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ফিলিস্তিনের ঘটনাবহুল ইতিহাস অতীতকালের নবীগণের কাহিনী দিয়ে শুরু হয়। হযরত ইয়াকুবের (আঃ) অপর নাম ছিল ইসরাইল। বনি ইসরাইল হযরত ইয়াকুবেরই বংশধর। খৃস্টপূর্ব তের শতাব্দী যাবৎ তারা সেখানে ক্ষমতাধর ছিলেন।

মিশরে ফেরাউনের রাজত্বকালে এবং হযরত মূসার (আঃ) আগমনের পূর্বে ইসরাইলীদের জনসংখ্যা খবই বৃদ্ধি পায়। মিশরে হযরত ইয়াকুবের (আঃ) আগমনের প্রায় চারশ’ তিরিশ (৪৩০) বছর পর হযরত মূসা (আঃ) বনি ইসরাইলকে মিশর থেকে প্রতিশ্রুতি ভূ-খন্ডে স্থানান্তরের জন্য পরিচালনা শুরু করেন।

এ পরিক্রমা ঘটনাবহুল চল্লিশ বছর যাবত অব্যাহত থাকে। এ সময়ই হযরত মূসা (আঃ) যখন চল্লিশ দিনের জন্য তাঁর গোত্র ছেড়ে দশ অধ্যায়-বিশিষ্ট খোদায়ী নির্দেশনামা আনতে তুর পাহাড়ে যান, তখন বনি ইসরাইল পুনরায় মূর্তি পূজায় আত্মনিয়োগ করে। আর এই নাফরমানীর কারণেই চল্লিশ বছর ধরে এ সম্প্রদায় মরুভূমিতে লক্ষ্যহীনভাবে পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মের প্রায় এক হাজার বছর আগে হযরত দাউদ (আঃ) ফিলিস্তিনীদের হাত থেকে জেরুজালেমকে মুক্ত করতে সক্ষম হন এবং সেখানে বায়তুল মুকাদ্দাস তথা আল্লাহর ঘর নির্মাণ করেন। হযরত দাউদ (আঃ)-এর পুত্র হযরত সুলায়মান (আঃ) বায়তুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেন। মক্কা শরীফে হযরত ইবরাহীম (আঃ) কর্তৃক কা’বা শরীফ নির্মাণের প্রায় এগারো শ’ (১১০০) বছর পর এবং হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্মের নয়শ’ সত্তর (৯৭০) বছর আগে বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মিত হয়।

কুর’আনে এ ভূমিকে নানা বরকতময় আনুষঙ্গিকতায় চিত্রিত করা হয়েছে এবং এ ভূমিকে মোকাদ্দাস বলা হয়েছে।

ইতিহাসের আদি উৎস থেকেই ইহুদী জাতির স্থায়ী কোন আবাস নেই। এ কারণেই হয়তো বাইবেলের পুরাতন নিয়মে ‘সৃস্টিতত্ত্ব’তে ইব্রাহীমকে (আ.) পরিভ্রমণকারী জাতির নেতা বলা হয়েছে। হযরত ইব্রাহীম (আ.) এর পরবর্তী পুরুষ ছিলেন ইয়াকুব (আ.)।

ইসরাইল নাম থেকেই এই জাতির নাম হয়েছে বনি ইসরাইল, অর্থাৎ ইসরাইলের বংশধর। বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের নামও ইসরাইল। এ এলাকাটি ৯৭০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত ছিলো হযরত দাউদ (আ.) এর শাসনের অধীন। পরবর্তীতে এ অঞ্চলের শাসক হন তাঁর পুত্র হজরত সোলায়মান (আ.)।

এরপর ইতিহাসের ধারা বেয়ে পর্যায়ক্রমে এ এলাকায় ইহুদী, খৃষ্টান এবং মুসলমানরা জনবসতি গড়ে তোলে। জেরুজালেমকে রাজধানী করে ইহুদীরা গঠন করেছিলো ‘জুদাহ’ রাষ্ট্র। তাও একসময় বিধ্বস্ত হয়েছিলো ব্যবিলনীয় রাজা নেবুচাঁদনেজারের হাতে।

পরবর্তীতে রোমানদের আক্রমনে আবারও ইহুদীরা বিতাড়িত হয় জেরুজালেম থেকে। সপ্তম শতাব্দীতে এ এলাকা মুসলমানদের আয়ত্ত্বে আসে এবং অটোম্যান সাম্রাজোর শেষ পর্যন্ত তা অুক্ষুন্ন থাকে।

তখন এখানে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। আজ যে ইহুদীরা মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করার জন্য উত্তপ্ত করে রেখেছে ফিলিস্তিনকে, সে ইহুদীরা মুসলিম শাসনের অধীনে সবসময়ই নিরাপদ থেকেছিলো ।

হযরত ঈসার অন্তর্ধানের প্রায় তিন’শ বছর পর রোম সম্রাট কনস্টান্টিন (৩০৬-৩৩৭ খৃস্টাব্দ) খৃস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন এবং এ ধর্মকে সরকারী ধর্ম হিসাব ঘোষণা দেন। ফলে জেরুজালেম আবারো বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।

যেহেতু বেথেলহামকে (বায়তুল লাহাম) হযরত ঈসার জন্মস্থান এবং তাঁর কথিত মাজারের কেন্দ্র বলে ধরা হয়, সেহেতু এরপর থেকে জেরুজালেম খৃস্টানদের কেন্দ্রীয় শহর বলে গণ্য হতে থাকে। সেখানে বহু গীর্জা নির্মিত হয়। ১৩৫ খৃস্টাব্দ থেকে পাঁচশো বছর সময় পর্যন্ত বায়তুল মুকাদ্দাসে কতিপয় ইয়াহুদী মাত্র বসবাস করতো।

ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ইহুদিদের বিশ্বাস, বংশ পরম্পরায় প্যালেস্টাইন ভূমির একক অধিকারী তারা। তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ তালমূদ ও তাওরাতের বিভিন্ন উক্তি ও উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তারা প্রমাণ করতে চায় যে, এ ভূমির বৈধ ও একমাত্র উত্তরাধিকারী ইহুদি জাতি বা বনী ইসরাইলীগণ।

পক্ষান্তরে, ইসলাম ও মুসলমানদের বিশ্বাস ভিন্ন। নির্দিষ্ট কোন বংশ বা জনগোষ্ঠীর জন্য কোন ভূমির একক অধিকার ইসলাম বা মুসলমান বিশ্বাস করে না। ইসলাম মৌলিকভাবে কোন জনগোষ্ঠীর ধর্ম নয় ; বরং, তা সুনির্দিষ্ট বিশ্বাস ও মতাদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

রোমানদের আক্রমণে বিধ্বস্ত হবার পর ইহুদীরা ইউরোপের বিভিন্ন ভূখন্ডে ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাসিত জীবন যাপন শুরু করে। তখন তারা কোন দেশেই মূলধারার জনগোষ্ঠীর সাথে একীভূত হতে পারেনি। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোতে ইহুদীরা সবক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেও এদের জীবন পরি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here